নিরাপত্তার অজুহাতে ভোটের মাঠ ছাড়লেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের বিএনপি প্রার্থী মাসুদুজ্জামান
নিজস্ব প্রতিবেদক, নারায়ণগঞ্জ।
নিরাপত্তাহীনতা ও ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৫ (শহর-বন্দর) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ মাসুদুজ্জামান। মঙ্গলবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেন। বিএনপি প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণার মাত্র কয়েক দিনের মাথায় তাঁর এই আকস্মিক প্রস্থান স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।
'আগে পরিবার ও নিরাপত্তা'
সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ী ও ক্রীড়া সংগঠক মাসুদুজ্জামান বলেন, "সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও ব্যক্তিগত কারণে আমি নির্বাচন করব না। আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করব না। এ কারণে আমি শহর ও বন্দরবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।"
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি আরও বলেন, "সবার আগে পরিবার এবং নিরাপত্তা। পরিবারের সদস্যরা বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে অত্যন্ত ব্যথিত ও ভীত। এর বাইরেও কিছু নিরাপত্তা ইস্যু আছে যা বিশদভাবে বলতে চাই না। পরিবেশটাই এখন নেতিবাচক। এটি দলের নয়, একান্তই আমার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।" তবে নির্বাচন থেকে সরলেও সমাজকর্মী হিসেবে আজীবন মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেন তিনি।
নেপথ্যে দলীয় কোন্দল ও অভ্যন্তরীণ সমীকরণ?
মাসুদুজ্জামান নিরাপত্তার কথা বললেও স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে ভিন্ন গুঞ্জন চলছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নেতার মতে, এই সিদ্ধান্তের পেছনে তিনটি প্রধান কারণ থাকতে পারে:
১. দলীয় অসন্তোষ: গত সেপ্টেম্বরে বিএনপিতে যোগ দেওয়া মাসুদুজ্জামানকে মনোনয়ন দেওয়ায় দলের একটি অংশ শুরু থেকেই ক্ষুব্ধ ছিল। মাঠ পর্যায়ের পদধারী নেতাদের সাথে তাঁর সমন্বয়হীনতা প্রকট হয়ে উঠেছিল।
২. বঞ্চিত প্রার্থীদের চাপ: এই আসনে মনোনয়নের লড়াইয়ে থাকা অন্য তিন হেভিওয়েট প্রার্থী মাসুদুজ্জামানের মনোনয়নের বিরুদ্ধে একাট্টা হয়েছিলেন। তাঁরা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে স্থানীয় কাউকে প্রার্থী করার দাবি জানিয়ে আসছিলেন।
৩. ব্যবসায়িক ঝুঁকি: দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একজন সফল ব্যবসায়ী হিসেবে তিনি ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারেন এমন আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
নতুন প্রার্থীর খোঁজে বিএনপি
গত ৩ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে মাসুদুজ্জামানকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছিল বিএনপি। তাঁর সরে দাঁড়ানোর ফলে এখন এই আসনে ধানের শীষের প্রার্থী কে হবেন, তা নিয়ে নতুন করে লড়াই শুরু হয়েছে। দলের বঞ্চিত সেই তিন প্রার্থীর নাম আবারও জোরেশোরে আলোচনায় উঠে এসেছে।
নারায়ণগঞ্জ বিএনপির তৃণমূল নেতা-কর্মীরা মনে করছেন, এই নাটকীয় পরিবর্তনের ফলে আসনটিতে বিএনপির নির্বাচনী কৌশলে বড় ধরণের পরিবর্তন আসতে পারে। এখন দেখার বিষয়, কেন্দ্র থেকে কার হাতে তুলে দেওয়া হয় চূড়ান্ত মনোনয়ন।
.jpeg)