রংপুর ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৪: কাঙ্ক্ষিত সাফল্যের মুখ দেখতে না পারার তীব্র হতাশা এবং মানসিক চাপের কাছে হার মানলেন এক মেধাবী শিক্ষার্থী। চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্নভঙ্গের এই কঠিন সময়ে নিজেকে শেষ করে দিলেন নিয়ামুল ইসলাম নীরব (১৯) নামের এই তরুণ।
গতকাল রোববার (১৫ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় রংপুর নগরীর লালবাগ এলাকার কাছে বালাপাড়া অঞ্চলে ঘটে এই মর্মান্তিক ঘটনা। ৩৩ হাজার ভোল্ট ক্ষমতাসম্পন্ন বৈদ্যুতিক সঞ্চালন লাইনের একটি খুঁটিতে উঠে নীরব নিজের শরীর জড়িয়ে দেন। মুহূর্তের প্রচণ্ড বৈদ্যুতিক শকে ঘটনাস্থলেই তাঁর শরীর দগ্ধ হয়ে মৃত্যু হয়। পরিবারের দাবি, নীরব আত্মহত্যা করেছেন।
স্বপ্ন নিয়ে রংপুরে আসা, পরিণতিতে শোক
নিহত নিয়ামুল ইসলাম নীরব কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার বেরুবাড়ী ইউনিয়নের বাসিন্দা। তাঁর বাবা এরশাদুল হক ও মা নুরুন্নাহার বেগম—উভয়েই স্থানীয় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। দুই ভাইয়ের মধ্যে নীরব ছিলেন বড় এবং উচ্চমাধ্যমিক পাসের পর থেকেই তিনি রংপুরে থেকে মেডিকেলের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি প্রকাশিত মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার ফলাফলে নীরব কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করতে পারেননি। ফলাফলের পর থেকেই তিনি মানসিক চাপে ভুগছিলেন। রোববার দুপুর থেকে পরিবারের সঙ্গে তাঁর মোবাইল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং সন্ধ্যায় আসে এই ভয়াবহ খবর।
নীরবের চাচা আবু বকর সিদ্দিকের ধারণা, মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ না পাওয়ার তীব্র কষ্ট ও হতাশা থেকেই নীরব এমন চরম পথ বেছে নিয়েছেন। তিনি জানান, নীরবের বাবা-মা বর্তমানে কথা বলার মতো অবস্থায় নেই এবং পুরো পরিবারে শোকের মাতম চলছে।
প্রশ্নবিদ্ধ শিক্ষাব্যবস্থার চাপ
বেরুবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আশরাফুল হক ঘটনাটিকে অত্যন্ত মর্মান্তিক আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, "পরিবারের সবাই শোকে স্তব্ধ। একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যতের আশা মুহূর্তেই নিভে গেল।"
একটি স্বপ্ন, অজস্র প্রত্যাশা এবং পরিবারের গড়া ভবিষ্যতের ছবি—সবকিছুই এক মুহূর্তে শেষ হয়ে গেল এই যুবকের আত্মহননে। এই মর্মান্তিক মৃত্যু আবারও আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার চাপ, ব্যর্থতার ভয় এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবার অভাবের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর দিকে আঙুল তুলছে। ভর্তি পরীক্ষার এই কঠিন প্রতিযোগিতা আমাদের শিক্ষার্থীদের কোথায় ঠেলে দিচ্ছে, এই প্রশ্নটি আজ সমাজের সামনে বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।
আপনার ব্লগের জন্য এটি ব্যবহার করতে পারেন। কেমন হয়েছে?
