জিগাতলায় হোস্টেল থেকে নাগরিক পার্টি নেত্রীর মরদেহ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা রাজধানীর জিগাতলার একটি ছাত্রী হোস্টেল থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ধানমন্ডি থানার যুগ্ম সমন্বয়কারী জান্নাত আরা রুমির (৩০) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার সকালে হোস্টেলের একটি কক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এনসিপি নেতৃত্বের দাবি, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অনবরত সাইবার বুলিং ও প্রাণনাশের হুমকির মুখে তিনি আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন।

ঘটনার বিবরণ

পুলিশ ও হোস্টেল সূত্রে জানা গেছে, জান্নাত আরা রুমি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন এবং জিগাতলার ওই হোস্টেলে একা একটি কক্ষে থাকতেন। সকালে দীর্ঘক্ষণ ডাকার পরও সাড়া না পেয়ে পরিচারিকা দরজায় ধাক্কা দিলে হার্ডবোর্ডের দরজার ছিটকানি খুলে যায়। পরে খবর পেয়ে হাজারীবাগ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

হাজারীবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে, তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এটি আত্মহত্যা নয়, খুন’

জান্নাত আরার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব তারেক রেজা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন পোস্টে দাবি করেছেন, এটি সাধারণ কোনো আত্মহত্যা নয়, বরং পরিকল্পিত ‘খুন’।

তিনি উল্লেখ করেন, গত মাসে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রায়ের দিন একটি অপ্রীতিকর ঘটনার জেরে জান্নাত আরা আওয়ামী লীগের এক কর্মীকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করেছিলেন। ওই ঘটনার পর থেকেই আওয়ামী লীগ সমর্থিত বিভিন্ন আইডি থেকে তাকে উদ্দেশ্য করে কুরুচিপূর্ণ সাইবার বুলিং, ধর্ষণ ও হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছিল।

তারেক রেজা তার পোস্টে লেখেন, "যারা আমার বোনের জীবনকে তছনছ করে দিয়েছে, তাদের আমরা শান্তিতে কাটাতে দেব না। এই মৃত্যুর দায় ওই হুমকিদাতাদেরই নিতে হবে।"

শোকের ছায়া

নিহত জান্নাত আরার বাড়ি নওগাঁর পত্নীতলায়। তার বাবার নাম জাকির হোসেন। একজন সক্রিয় রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে ধানমন্ডি এলাকায় তার পরিচিতি ছিল। তার এই অকাল ও রহস্যজনক মৃত্যুতে সহকর্মী ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, সাইবার বুলিং বা হুমকির বিষয়ে কোনো তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেলে তা খতিয়ে দেখা হবে।

Post a Comment

Previous Post Next Post