ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত: কুশনার ও উইটকফের পাকিস্তান সফর বাতিল করলেন ট্রাম্প, কূটনীতিতে চরম অনিশ্চয়তা


 ইসলামাবাদ/ওয়াশিংটন: দুই মাস ধরে চলা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধ থামানোর চেষ্টায় বড় ধরনের ছন্দপতন ঘটেছে। শনিবার এক নাটকীয় সিদ্ধান্তে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার দুই শীর্ষ আলোচক—বিশেষ দূত স্টিভেন উইটকফ এবং জামাতা জ্যারেড কুশনারের পাকিস্তান সফর বাতিল করেছেন। বিমান উড্ডয়নের ঠিক আগ মুহূর্তে ট্রাম্প এই নির্দেশ দেন, যা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে দুই পক্ষ একটি শান্তি চুক্তির থেকে এখনও অনেক দূরে অবস্থান করছে।

"তাদের দরকার হলে আমাকে ফোন করুক": ট্রাম্প

সফর বাতিলের পর ফ্লোরিডা থেকে ওয়াশিংটন ফেরার পথে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, "তারা চাইলে আমাকে কল করতে পারে। আমাদের হাতে সব তাস (Cards) আছে। আমরা সবকিছু জিতেছি।" ট্রাম্পের মতে, ইরানি কর্মকর্তারা আলোচনার জন্য যে স্তরের প্রতিনিধি পাঠাচ্ছিলেন, তারা যথেষ্ট প্রভাবশালী নন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "যাদের নাম কেউ শোনেনি, তাদের সাথে কথা বলতে আমি আমার প্রতিনিধিদের ১৫-১৬ ঘণ্টা ভ্রমণ করাব না। আমি খরচ সম্পর্কে খুব সচেতন।"

মূল বিরোধের জায়গাগুলো

আলোচনা থমকে যাওয়ার পেছনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ উঠে এসেছে:

  • পারমাণবিক কর্মসূচি: ইরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুদ হস্তান্তর করতে এবং পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করতে এখনো রাজি হয়নি।

  • হরমুজ প্রণালী: বিশ্বের তেলের বাজারের গুরুত্বপূর্ণ এই রুটটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে তীব্র বিরোধ চলছে।

  • নৌ-অবরোধ: ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান স্পষ্ট জানিয়েছেন, মার্কিন নৌ-অবরোধ বহাল থাকা অবস্থায় তারা কোনো আলোচনায় বসবেন না।

ইরানের পাল্টা অবস্থান

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সাথে ফোনালাপে ইরানি প্রেসিডেন্ট বলেন, "চাপ, হুমকি এবং অবরোধের মুখে আমরা কোনো আলোচনা করব না।" এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ওমান সফর শেষে আবারো পাকিস্তানে ফেরার কথা রয়েছে, যদিও ট্রাম্পের প্রতিনিধিরা সেখানে না যাওয়ায় আলোচনার ভবিষ্যৎ এখন কুয়াশাচ্ছন্ন।

কূটনৈতিক লড়াই বনাম অর্থনৈতিক যুদ্ধ

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন যে ইরানের নতুন প্রস্তাব আগের চেয়ে কিছুটা ভালো হলেও তা আমেরিকার শর্ত পূরণ করতে পারেনি। অন্যদিকে, ট্রাম্পের ধারণা ইরানের অর্থনীতি মার্কিন অবরোধ আর বেশিদিন সহ্য করতে পারবে না। কিন্তু ইরানও দমে যাওয়ার পাত্র নয়; তারা মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের যুদ্ধ বিরোধী জনমতের ওপর ভরসা করছে।



Post a Comment

Previous Post Next Post